1. infojayjaysomoy@gmail.com : দৈনিক যায়যায় সময় : দৈনিক যায়যায় সময়
  2. info@www.jayjaysomoy.com : দৈনিক যায়যায় সময় :
রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কাউয়ার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনা  স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বপ্নবাজ পরিবারের পক্ষ থেকে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত নিয়ামতপুরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এমপি মোস্তাফিজুর রহমানের মতবিনিময় বরিশাল রুপাতলীর মহাসড়ক ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের দখলে রৌমারীতে বিজিবির অভিযানে ইয়াবা ও ভারতীয় মদসহ আটক-১  গাজীপুরে ট্রেনের ধাক্কায় এক প্রতিবন্ধী নিহত নিয়ামতপুরে ভ্যান চালককে লোহার রড দিয়ে মারধরের অভিযোগ জলঢাকায় ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ তালিকা নিয়ে ক্ষোভ নিয়ামতপুরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহ সংকট, ভোগান্তিতে সেবাগ্রহীতারা বনের বাঘে খায় না, মনের বাঘে খায়

বনের বাঘে খায় না, মনের বাঘে খায়

সাংবাদিক ও লেখক নাসিম আনোয়ার:-
  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান দিব্যি সুস্থ আছেন। তাঁকে বনের বাঘ আর মনের বাঘেও খেতে পারেনি।। এটাই সত্য মানুষকে বনের বাঘের চেয়েও বেশি খায় মনের বাঘে। ডা. শফিকুর রহমান চাইলে পৃথিবীর যে কোনো দেশের অভিজাত উন্নত হাসপাতালে বিদেশি বিশেষজ্ঞ কার্ডিয়াক সার্জনের মাধ্যমে বাইপাস সার্জারি করাতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা করেননি, তিনি বাংলাদেশে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন।

তাঁর ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছে স্বদেশে। কার্ডিয়াক সার্জন এবং সংশ্লিষ্ট সার্জারি টিমের সবাই বাঙালি। গর্বিত বাঙালির সন্তান। দেশ আর দেশের মেধাবী সন্তানদের প্রতি আমাদের অনেকেরই আস্থা নেই ফলে চিকিৎসা সেবা নিতে আমরা বিদেশে ছুটছি অথচ আমাদের দেশেই আছেন খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। দেশেই রয়েছে বিশ্বমানের চিকিৎসা।

তবে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা অপ্রতুল এটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সরকারি হাসপাতালে প্রশাসনিক জটিলতা, চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট অসাধু কর্মী, রাজনৈতিক প্রভাব অনেকটা দায়ী।

দুঃখজনক হলেও সত্য, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি হাসপাতাল যেনো নিজেই অসুস্থ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়- স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য বিভাগের তৃণমূলে লুটেরাদের দৌরাত্ম্য। রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত ওষুধ-চিকিৎসা সরঞ্জাম, খাদ্য চুরি হয়ে যায়। সরকারি হাসপাতালে নিরুপায় হয়ে কর্মরত বিশেষজ্ঞ মানবিক চিকিৎসক থাকলেও তাঁদের করার কিছু থাকে না। সংঘবদ্ধ ব্যবসায়ি সিন্ডিকেট, প্রশাসনিক জটিলতা আর রাজনৈতিক প্রভাবে চোর-ডাকাতের অত্যাচার নানান পীড়নের যাঁতাকলে লাঞ্ছিত হন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। রোগীদের পয়নিষ্কাশন অব্যবস্থার দায় নিতে হয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে। যতো বদনাম সবই চিকিৎসকের। বেসরকারি হাসপাতালে এসব বদনাম থেকে – বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অনেকটা মুক্ত।

হতদরিদ্র মানুষের জন্য না হলেও দেশের উচ্চবিত্ত আর মধ্যবিত্তদের জন্য গড়ে উঠেছে বিশ্বমানের প্রাইভেট হাসপাতাল। এসব বিশেষায়িত হাসপাতালে সকল প্রকার রোগ নির্ণয় হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ শল্য চিকিৎসক জটিল ঝুঁকিপূর্ণ রোগীর সফল সার্জারি করে সুনাম কুড়িয়েছেন।
চোয়াল, ইউরোলজি – অনকোলজি, মুখ ও চোয়াল, অর্থোপেডিক ও জয়েন্ট, নি ও হিপ রিপ্লেসমেন্ট, আর্থোস্কোপিক, ব্রেন, ক্রানিওটমি ও ভাসকুলার, স্পাইনাল সার্জারি, ব্রেন টিউমার সহ যাবতীয় নিউরো সার্জারি, হার্টের সব ধরনের জটিল সার্জারি সফল হচ্ছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশে এখন অসংখ্য দক্ষ, কার্ডিয়াক সার্জন রয়েছেন, যাঁদের খ্যাতি রয়েছে দেশের বাইরেও।

দেশের শীর্ষস্থানীয় ও অভিজ্ঞ কার্ডিয়াক সার্জনদের মধ্যে জাহাঙ্গীর কবির, এ কে এম মঞ্জুরুল আলম, কামরুল আহসান, জাকির খালেদ, অসিত বরণ অধিকারী, সঞ্জয় কুমার রাহা, জুলফিকার হায়দার, প্রশান্ত কুমার চন্দ, রোকনুজ্জামান সেলিম, ফারুক আহমেদ প্রমুখ।
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায় কার্ডিয়াক সার্জন সঞ্জয় কুমার রাহা জটিল সার্জারিতে আলোচিত। তিনি জটিল আর ঝুঁকিপূর্ণ সার্জারিগুলো সফলতার সাথে করে আলোচিত হয়েছেন।

২০২৩ সালের ১৬ জুন আমার হার্ট অ্যাটাক হলে আমাকে প্রথমে প্রাইভেট হাসপাতাল ইব্রাহিম কার্ডিয়াকে পরবর্তীতে বিএসএমএমইউ কার্ডিয়াক সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। আমার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় দীর্ঘদিন আমাকে আইসিইউ সাপোর্ট দেয়া হয়। এনজিওগ্রাম করার পর জানা যায় আমার হার্টের মেইন করোনারীতে চার ব্লক রয়েছে। যার একমাত্র চিকিৎসা বাইপাস সার্জারি। বিপত্তি ঘটে আমার নিউরোলজিক্যাল জটিলতা থাকায় আমাকে ওপেন হার্ট সার্জারি করা। জটিল আর ঝুঁকিপূর্ণ।
আমি বিরল স্নায়ু রোগে (Myasthenic crises) ভুগছিলাম। এ ধরনের রোগী বাংলাদেশে তেমন নেই। এই রোগীদের মাসেল দুর্বল থাকার কারণে বড় ধরনের অস্ত্রপচার করা সম্ভব নয় বলে মেইন চিকিৎসকরা ঝুঁকি নিতে চান না। হাসপাতাল থেকে আমাকে দেশের বাইরে অন্য কোথাও বাইপাস সার্জারির পরামর্শ কি দেয়া হলো।
আমার পরিবারের সদস্যরা আমাকে চিকিৎসার জন্য উন্নত দেশে নেয়ার প্রস্তুতি নিলেও আমি প্রত্যাখ্যান করে বলি মরে গেলে দেশেই মরব বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাবো না। নিরুপায় হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসকের সন্ধান করতে থাকলাম। বিভিন্ন সূত্রে কার্ডিয়াক সার্জন অধ্যাপক ডা. সঞ্জয় কুমার রাহার সদ্য সন্ধান পেলাম। পরামর্শের জন্য সঞ্জয় রাহার চেম্বারে পৌছলাম। তাঁর সামনে পৌছলেই তিনি আমাকে এক নজর দেখেই বুঝে নিলেন মায়াস্হেনিয়া গ্রাভিস (Myastheni Gravis) রোগী। আমি জটিল স্নায়ু রোগ মায়াস্থেনিয়া গ্র্যাভিসে ভুগছি, আমাকে জাতীয় নিউরো সায়েন্স ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রেফার্ড করলেন। সেখানে খ্যাতিমান স্নায়ু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. প্রভাত কুমার সরকার মহোদয়ের শরণাপন্ন হলে তিনি আমাকে সেখানে ভর্তি করে দিলেন। শুরু হলো আমার পরীক্ষা-নিরীক্ষা। চার দিন ব্যয়বহুল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিউরো সায়েন্স হাসপাতাল থেকে বাইপাস সার্জারির পূর্বে এবং পরে কি কি করণীয় সে সম্পর্কে বিশাল একটি নোট তৈরি করে দিলেন।

নিউরো সায়েন্স ইনস্টিটিউটের পরামর্শ অনুযায়ি সার্জন সঞ্জয় রাহা আমার ওপেন হার্ট সার্জারির জন্য বিশাল একটি সার্জারি টিম তৈরি করে বাইপাসের প্রস্তুতি নিলেন।
২৮ অক্টোবর ২০২৩ কার্ডিয়াক সার্জন সঞ্জয় কুমার রাহা এবং তাঁর দক্ষ টিম আমার বাইপাস সার্জারি সমাপ্ত করেন। সার্জারি শেষে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিয়ে আমার হার্ট দ্বিতীয় দফায় ওপেন করে পুনরায় অস্ত্রপচার করে নিবিড় পরিচর্যার জন্য আইসিইউতে লাইফ সাপোর্ট দেয়া হয়। সার্জন সঞ্জয় রাহা এবং তাঁর টিমের দক্ষতার দৈবক্রমে আমি বেঁচে যাই। ধীরে ধীরে আমি সুস্থ হয়ে উঠি। এখন আমি সম্পূর্ণ সুস্থ জীবন যাপন করছি সাথে বিগত তিন বছর ধরে অধ্যাপক কার্ডিয়াক সার্জন ডা. সঞ্জয় কুমার রাহার যোগাযোগ। নিয়মিত চেকআপের জন্য তাঁর চেম্বারে যেতে হয়। তাঁর কাছে আসা অসংখ্য রোগী এবং সে স্বজনদের

আলোচনা শুনি ততোই আমার কৌতুহল বেড়ে যায় নতুন নতুন জটিল ঘটনা সম্পর্কে। কখনো সুযোগ হলে আলোচনা করবো। যদিও আমি নন মেডিকেল পার্সন তত্ত্ব এবং তথ্য ভুল হলে ক্ষমা করবেন। যদিও বিজ্ঞান ভিত্তিক ভুল তথ্য প্রকাশে অমার্জনীয়। এই অপরাধের কোনো ক্ষমা নেই। তবুও যতোটুকু জেনেছি এর কিছুটা লিখছি সংক্ষিপ্ত করে।

আমাদের দেশের কার্ডিয়াক সার্জনগণ এতটাই দক্ষ হয়ে উঠছেন যে, তাদের কাছে বাইপাস সার্জারি সর্দি-জ্বরের চিকিৎসার মতো। শতভাগ সফল, আজ ওপেন হার্ট সার্জারি হচ্ছে আগামীকাল সুস্থ। পাঁচ-সাত দিনের মধ্যেই রোগী “বাড়ি চলে যাচ্ছেন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাচ্ছেন। সে হিসেবে বলতে হচ্ছে হৃদরোগের স্থায়ী চিকিৎসা হলো ওপেন হার্ট-বাইপাস সার্জারি, ডা. শফিকুর রহমানের বাইপাস সার্জারি করেছেন অধ্যাপক কার্ডিয়াক সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর কবির এবং তার সার্জারি টিম। বাংলাদেশে অপেক্ষাকৃত তরুণ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ সার্জন অধ্যাপক কার্ডিয়াক সার্জন ডা. সঞ্জয় কুমার রাহা সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত হওয়ার কারণ, তিনি -ও রোগীর স্বজনদের জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ সার্জারি সফলতার সাথে করে আসছেন। তিনি যোগী ও রোগীর প্রতি নির্ভরযোগ্য আর আস্থার প্রতীক।

তিনি মহাধমনী সহ এওটিক ভাল্ব এর অপারেশন করেছেন অসংখ্য। এই অপারেশনটি জটিল আর ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সার্জন ডা. সঞ্জয় রাহা প্রতিটি অপারেশনে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন শতভাগ।বাতজ্বর থেকে হার্টের ভাল্ব নষ্ট বা অকেজো হলে যার এতে হার্টের চেম্বারে রক্ত জমাট বাঁধে, জমাট রক্ত ছুটে গিয়ে স্ট্রোক-গ্যাংগ্রীন হয়ে থাকে। হার্টের এনজাইম হয়ে প্রচণ্ড ব্যথা আর শ্বাসকষ্ট হয়ে মৃত্যু বরণ করে। দৈবক্রমে কোনো রোগী সার্জারি পর্যন্ত বেঁচে থাকলে তিনি সুস্থ হয়ে যান।

মারফান সিনড্রোম হার্টের একটি মারাত্মক রোগ। এই রোগে আক্রান্ত রোগীর মহাধমনির অংশ বিশেষ ফেটে যায়, ভাল্ব নষ্ট হয়, বুকে অসহ্য ব্যথা হয়। মারফান সিনড্রোম (MARFAN SYNDROME) মূলত জিনগত ব্যাধি যা শরীরের যোজক কলাকে প্রভাবিত করে। এর ফলে হৃদপিণ্ড, রক্তনালী, চোখ এবং কঙ্কালতন্ত্রের সমস্যা দেখা দেয়। মারফান সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারনত লম্বা ও সরু গড়নের হয়। এবং এদের হাত-পা গুলো দীর্ঘ হয়। সবচেয়ে গুরুতর লক্ষন হলো মহাধমনী বা অ্যার্টার প্রসরণ ও ফেটে যাওয়া এবং ভাল্ব অকেজো করে দেয়া, চোখের লেন্স সরে যাওয়া যে কারণে তীব্র মায়োপিয়া বা ক্ষীণ দৃষ্টি হতে পারে। এধরনের জটিল জটিল অপারেশন সফলতার সাথে করে যাচ্ছেন কার্ডিয়াক সার্জন ডা.সঞ্জয় কুমার রাহা, সুযোগ বা সময় হলে এবং সম্মানিত পাঠকের আগ্রহ থাকলে এ ধরনের বিষয় নিয়ে আরও লিখতে চাই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সকল লেখা, ছবি ও অন্যান্য কনটেন্ট “দৈনিক যায়যায় সময়”-এর মালিকানাধীন। অনুমতি ব্যতীত কোনো কনটেন্ট কপি, ব্যবহার, বিতরণ বা পুনঃপ্রকাশ করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। যদি কোনো লেখা, ছবি বা তথ্যের উপর আপনার স্বত্বাধিকার দাবি থাকে, অনুগ্রহ করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। যথাযথ যাচাই-বাছাই ও প্রমাণ উপস্থাপনের ভিত্তিতে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট অপসারণ করা হবে।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট