নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও নিয়োগের নির্ধারিত শর্ত যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করে পছন্দের ব্যক্তি ও পরিচিতদের নির্বাচিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন একাধিক চাকরিপ্রত্যাশী।
গত বৃহস্পতিবার রাতে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে উপজেলাজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
ঘটনার পটভূমি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া
উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উপকারভোগীদের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য জলঢাকার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভায় তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রত্যাশী আবেদন করেন।
পরবর্তীতে গত ২৮ জুলাই প্রার্থীদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। প্রার্থীর সংখ্যা অতিরিক্ত হওয়ায় ধাপে ধাপে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল।
চাকরিপ্রত্যাশীদের মূল অভিযোগসমূহ অভিজ্ঞতা ও নীতিমালার লঙ্ঘন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নারী প্রার্থীদের জন্য ৫০% কোটা এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) পূর্ববর্তী জরিপে কাজের অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা ছিল। অভিযোগ উঠেছে, চূড়ান্ত তালিকায় তা অনুসরণ করা হয়নি এবং অভিজ্ঞতা নেই এমন ব্যক্তিদেরও প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
তালিকা ও ঠিকানা সংক্রান্ত অসঙ্গতি: बालाগ্রাম ইউনিয়নের চূড়ান্ত তালিকায় পৌরসভার এক বাসিন্দার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া একই ব্যক্তির নাম মূল নির্বাচন তালিকা ও অপেক্ষমাণ তালিকা—উভয় স্থানেই পাওয়া গেছে। অনুরূপ অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে কৈমারী ইউনিয়নের তালিকাতেও।
স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব: গোলমুন্ডা ইউনিয়নে এক রাজনৈতিক নেতার আপন ভাই-বোনকে নির্বাচিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া জলঢাকা পৌরসভার মাত্র দুই-তিনটি ওয়ার্ড থেকে একাধিক ব্যক্তিকে নির্বাচিত করা হয়েছে বলে দাবি করেন একাধিক চাকরিপ্রত্যাশী।
মাঠপর্যায়ে প্রভাব ও চাকরিপ্রত্যাশীদের দাবি স্থানিয়দের মতে, ফ্যামিলি কার্ড সামাজিক নিরাপত্তামূলক একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি উদ্যোগ। শুরুতেই যদি তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে স্বচ্ছতা না থাকে, তবে প্রকৃত উপকারভোগী বাছাইয়ের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হতে পারে।
ক্ষুব্ধ চাকরিপ্রত্যাশীরা এই বিতর্কিত নিয়োগ প্রক্রিয়া অবিলম্বে পর্যালোচনা, অনিয়মের তদন্ত এবং চূড়ান্ত তালিকা পুনর্মূল্যায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানান, মেধার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং এতে সংশোধনের সুযোগ নেই। তবে কোনো সুনির্দিষ্ট অনিয়ম প্রমাণিত হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, নিয়োগ নির্বাচন কমিটির সভাপতি ও জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপির বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার মোবাইল ফোনে চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।