স্বাধীন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে পাবনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান।
পুলিশ সংস্কার কমিশনের তত্ত্বাবধানে তাকে পাবনা জেলা পুলিশে পদায়ন করা হয়। বাংলাদেশ পুলিশের এই কর্মকর্তা এর আগে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পাবনায় দায়িত্ব গ্রহণের পর চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক, অস্ত্র চোরাচালান, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন আলোচিত মামলার আসামি গ্রেফতারে নেতৃত্ব দেন তিনি।
তার নেতৃত্বে ঈশ্বরদীর আলোচিত দাদি-নাতনি ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া অস্ত্র চোরাচালানকারী চক্রের প্রধান শুটার আলমগীর, অধ্যাপক জহরলাল বসাক তুলসীর বাসায় ডাকাতির ঘটনায় জড়িত আসামি, জেলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী শিমুল হত্যা মামলার আসামি এবং বেড়া-সাঁথিয়ার ডাকাতি ও ছিনতাই চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়। সদর পৌরসভার শিশু হাফসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দেন তিনি।
পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি ও হুমকির ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং থানাগুলোতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশনাও দেন। একাধিক গণমাধ্যমকর্মী, ব্যবসায়ী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা দাবি করেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং বিভিন্ন অপরাধ দমনে রেজিনূর রহমান সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
তাদের ভাষ্য, বিভিন্ন অভিযানের পর তিনি নিয়মিত গণমাধ্যমকে তথ্য দিয়েছেন এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছেন। বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মীও দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে তিনি কার্যকর ভূমিকা পালন করেছেন। উল্লেখ্য, রেজিনূর রহমান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন।